Sunday, July 13, 2014

একামতের আগে দাঁড়ানো মাকরুহ




সঠিক ফয়সালা হলো যখন একামত শুরু হয় তথন সাথে সাথে দাঁড়াইয়া যাওয়া বা আগে দাঁড়ানো মাকরুহ। বিশুদ্ধ মত  হলো হাইয়ালাছ্‌ছলাহ বা হাইয়ালাল্‌ফালাহ্‌ বলার সময় উঠে দাঁড়ানো। হানাফী মাযহাবে হাইয়ালাছ্‌ছলাহ বা হাইয়ালাল্‌ফালাহ্‌ বলার আগে দাঁড়ানো মাকরুহ ও সুন্নতের পরিপন্হী। ইকামতের পরে কাতার সোজা করার নিয়ম বিভিন্ন হাদিসের কিতাবে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ আছে। যেমনঃ-

  ১।  সহীহ বুখারী  শরীফ ১ম খন্ড-৮৯, ১০০ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
  ২।  সহীহ মুসলিম শরীফ ১ম খন্ড-২১০,৩২৪ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
  ৩।  সুনানে নাসাঈ শরীফ ২য় খন্ড-৮৯, ৯২ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
  ৪।  সহীহ মিশকাত শরীফ  ৯৭-৯৮ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
  ৫।  মাসনাদে ইমাম আহমদ( ৪র্থ খন্ড)৩৭৫ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
  ৬।  সুনানে দারে কুতুনী (১ম খন্ড)২২৫ পৃষ্টা (হাদিস নং-১০৮০) দ্রষ্টব্য।
  ৭।  আবু দাউদ শরীফ ১ম খন্ড-২৫৭ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
  ৮।  মাসনাদে ইমাম যায়েদ (রঃ)  ১০৪ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
  ৯।  মাসনাদে ইমাম শাফেঈ (রঃ)  ১৫৩ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
           ১০।  বায়হাকী শরীফ ৪ঠা খন্ড-৪৭৩-৪৭৪ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
           ১১।  মুয়াত্তা ইমাম মালেক (রহঃ)  ১ম খন্ড ১৫৮ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
           ১২।  তিরমিযী শরীফ  ১ম খন্ড ৪৩৯ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
           ১৩।  মাসনাদে ইমাম আহমদ ৩য় খন্ড-১৬৩পৃষ্টা(হাদিস নং-১২২৯৯) ও ৩৩৩ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
১৪। ফতহুল বারী ২য় খন্ড  ৪৪২ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।

            ইমাম বুখারী(রঃ) স্বীয় বুখারী শরীফে ১ম খন্ড-১০০পৃষ্টায় একটি বাবু  ও রচনা করেছেন তাহলোঃ-
                        ( তাসবিয়াতুস্‌ সুফুফ ইন্দাল ইকামাহ্‌ ওয়া বাদাদাহা  )

  উপরোক্ত হাদিসের  দলিলাদি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমান পাওয়া যায় ইকামতের পরে কাতার সোজা করা সুন্নাত, আগে সোজা করা  খেলাপ ও সুন্নাত বিরোধী। এটা চার খলিফার পুর্নাঙ্গ আমল এবং আজ পর্যন্ত বিজ্ঞ ওলমায়ে কেমারদের  আমল। এখানে কোন ধরনের কিয়াস করার সুযোগ নেই যেহেতু হাদিসে স্পষ্ট এবং ইজমা দ্বারা চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত। চার মাযহাবের কোন মাযহাবে হাইয়ালাছ্‌ছলাহ  বা হাইয়ালাল্‌ফালাহ্‌ বলার আগে উঠার নিয়ম নেই। বিভিন্ন ফতোয়ার কিতাবাদির দলিলঃ-

ক.  ওমদাতুর রেআয়াহ্‌  ও শরহে বেকায়াহ্‌   ১মখন্ড ১৫৫ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
খ.   ফতোয়া রুদ্দুল মোখতার ১ম খন্ড ৪০০ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
গ.   ফতোয়ায়ে শামী ২য় খন্ড ৬৫ পৃষ্টা ও নুরুল ইত্যাহ ১৮৫ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
ঘ.   ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১ম খন্ড ৫৭ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
ঙ.   ফতোয়ায়ে বাদায়িউচ্ছানায়ী ১ম খন্ড ২০০ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
চ.    কানযুদ দাকাইয়া ২৪ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
ছ.   মিরকাত ২য় খন্ড ১৫৪ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।
জ.  আল্লামা যুরকানী  ১মখন্ড ১৩৪ পৃষ্টা দ্রষ্টব্য।

 আগের  যুগে  মসজিদে কাতাতের স্থায়ী চিহ্ন বা লাইনের দাগ দেয়া ছিলনা বিধায় কাতার  সোজা  করতে  অনেক  কষ্ট  হত। তাই অনেক সময় একামতের পরেও  হুজুর (সঃ) স্বয়ং  কাতারের ফাকে ঢুকে  কাতার সোজা করতেন এবং পরবর্তীতে  ইমাম গন এই নিয়ম অনুস্বরণ করতেন। বর্তমান যুগে পৃথিবীর সবদেশের মসজিদ সমুহে কাতার সোজা করার জন্য স্থায়ী চিহ্ন বা লাইনের দাগ দেয়া আছে ফলে মাত্র ৫-১০ সেকেন্ডে কাতার সোজা করা যায়। তাই একামতের আগে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা কোন যুক্তিকতা নেই। সুতরাং এটা মাকরুহ বা বেদাত কাজ।

শেষ কথা হল ; ইকামতের আগে দাড়িয়ে যাওয়া মাকরুহ ও সুন্নতের খেলাফ। যদি কেহ ভুল বশতঃ একামতের সময় বা তার আগে উঠে যায় তাহলে তাঁর উচিৎ বসে যাওয়া এবং  হাইয়ালছলাহ বা হাইয়ালাল্‌ফালাহ্‌ বলার পরে উঠে দাঁড়ানো এবং কাতার সোজা করা । এটা হল নবীজীর (সঃ) সুন্নাত, তাবেয়ী, তবে তাবেয়ী, আইম্মাযে কেরাম ও বিজ্ঞ আলেমদের নিয়ম। সুতরাং সম্মানিত ইমাম সাহেবগনের উচিৎ মাসয়ালাটা ভালভাবে যাচাই বাচাই করে বাস্তব জীবনে আমল করা মুসল্লিদের এতদ বিষয়ে অবগত করানো অন্যতায়  হুজুর (সঃ) সুন্নতের উপর আমলের খেলাফ হবে। আল্লাহ পাক আমাদের সঠিক বিষয়ে জানার ও বুঝার  তৌফিক দান করুন ।

তথ্যসুত্র সহায়তাঃ মাওলানা মুহাম্মদ ইউছুফ,পেশ ইমাম ও খতিব, শেরশাহ বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ, বয়েজীদ বোস্তামী, চট্টগ্রাম।





স্বাস্থ্য কথা




লবঙ্গের অনেক গুণ t লবঙ্গ সাধারণত রান্নার সময় অনেকে ফোড়নে ব্যবহার করেনগরম মসলার মধ্যেও লবঙ্গ থাকেতা রান্নার স্বাদ বাড়ায়এছাড়া লবঙ্গের আরও বিশেষ কিছু গুণ আছে, যা আমাদের শরীরের ক্ষেত্রে ভীষণ ফলদায়ীচলুন সেগুলো জেনে নিই লবঙ্গ কফ-কাশি দূর করে পানির পিপাসা পেলে বা বুকে অস্বস্তি হলে লবঙ্গ খাওয়া দরকারতাতে পিপাসা মেটেশরীরে ফুর্তি নিয়ে আসে হজমে লবঙ্গ সহায়তা করে খিদে বাড়ায় পেটের কৃমি নাশ করে দেয়লবঙ্গ পিষে মিশ্রি বা মধুর সঙ্গে খাওয়া ভীষণ ভালোএতে রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ায় এটা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কাজ করেহাঁপানির মাত্রা কম করেচন্দনের গুঁড়োর সঙ্গে লবঙ্গ পিষে লাগালে ত্বকের যে কোনো সমস্যা দূর হয়ে যায় দাঁতের ক্ষেত্রে লবঙ্গ ভীষণ ভালো ওষুধদাঁতে ব্যথা হলে লবঙ্গ মুখে রাখুন কমে যাবেমুখে দুর্গন্ধ দূর করে লবঙ্গ মুখে ছালা হলে পানের মতো পেয়ারা পাতা চিবিয়ে খান, ছালা কমে যাবেদৈনিক আমার দেশ, ০২ র্মাচ ২০১০

ভেষজ গুনাগুন t কাঁচামরিচের গুণের কথা

ব্রণ উঠলে কাঁচামরিচ বেটে সেই লেপটা লাগানউপকার পাবেন চুলকানি হলে তেলের মধ্যে কাঁচামরিচ গরম করে সেই তেলটা মালিশ করুনজয়েন্টের ব্যথায়ও এটা ভালো কাজ করে কুকুর কামড়ালে কাঁচামরিচ পিষে সেই পেস্টটা লাগিয়ে দিনবিষ ছড়াবে না মাকড়সা ত্বকের উপর দিয়ে গেলে মুখে ছোটো ছোটো দানা বের হয়এতে কাঁচামরিচের পেস্ট লাগান, উপকার পাবেনদৈনিক আমার দেশ, ১৬ র্মাচ ২০১০

ক্যান্সার নিরাময়ে রসুনের উপাদান
t রসুনের মধ্যস্থিত কেমিক্যাল ব্যবহার করে এবং দুই পর্যায়ের ডেলিভারি পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে ইঁদুরের ক্যান্সার ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরাএ সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ তথ্য ডিসেম্বর ২০০৩ সংখ্যা মলিকিউলার ক্যান্সার থেরাপিউটিকস’-এ প্রকাশিত হয়েছে

রোগ প্রতিরোধ চা t চায়ের উপকারিতা শুধু সকালের ভাঙা ঘুমের জড়তা কাটানোতেই সীমাবদ্ধ নয়চায়ে আছে বহুমুখী গুণ যা আপনাকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে সহায়কচা খেলে গায়ের রং পরিবর্তন বা কালো হয় এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুলআবার কেউ কেউ মনে করেন চা খেলে ত্বক খসখসে হয়ে যাবেঅনেকে আবার বিশ্বাস করেন, চা খেলে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, চামড়ায় কালো ছাপ পড়ে এর কোনটিই ঠিক নয়তবে মাত্রাতিরিক্ত খেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে আদা t 

রান্নাবান্নার কাজে আদা ব্যবহারের কথা রাঁধুনীদের কাছে অজানা নয়মূলত সুগন্ধযুক্ত বলে এটি মসলা হিসাবে রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়কিন্তু এর পাশাপাশি বর্তমানে বিভিন্ন গবেষণায় নানা রোগ প্রতিরোধে এর শক্তিশালী কার্যকর ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছেসম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক পরিচালিত এক গবেষণায় জানা গেছে, আদা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কার্যকরভাবে কমাতে সাহায্য করেমূলত রক্তে অধিক মাত্রার কোলেস্টেরলের উপস্থিতি হৃদরোগ সৃষ্টির বিভিন্ন কারণের মধ্যে বিশেষ একটিগবেষকদের মতে, আদায় রয়েছে রক্ত জমাটবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা রক্তনালীর ভিতরের রক্ত জমাটে বাধা দান করেএ ছাড়াও আদা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেফলে হৃদরোগ প্রতিরোধ সহজ হয়সুতরাং আদার গুণ ভোলার নয়  দৈনিক ইত্তেফাক,১৮ এপ্রিল ২০০৯

পুষ্টিতে তুষ্টিঃ কালিজিরার পুষ্টি t প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ খাবারের সঙ্গে কালিজিরাগ্রহণ করে আসছেসম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানতে পেরেছেন যে কালিজিরার সব গুণ লুকিয়ে আছে এর তেলেসাধারণত আমরা খাবারের সঙ্গে মসলা হিসেবে অথবা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গে কালিজিরা খেয়ে থাকিকিন্তু এভাবে আমাদের স্বাস্থ্য কালিজিরার আসল গুণাবলি থেকে বঞ্চিত হয়তাই কালিজিরা নয়, বরং কালিজিরার তেল আমাদের শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারী

রসুনের গুণাগুণ  t রসুন, পেঁয়াজ এবং অন্যান্য ঝাঁঝালো সবজি অনেক ক্ষেত্রেই বেশ উপকারীক্যাসার গবেষকদের মতে রসুন ও পেঁয়াজ নিয়মিত খেলে পুরুষরা প্রষ্টেট ক্যাসারের হাত থেকে রেহাই পেতে পারেচীন দেশের গবেষকরা এ ব্যাপারে আরো উচ্চকিত তারা বলেন, যারা প্রত্যহ ১০ গ্রামের অধিক পরিমাণে রসুন, পেঁয়াজ বা অন্যান্য ঝাঁঝালো স্বাদের সবজি খেয়ে আসছেন,তাদের প্রষ্টেট ক্যাসার হওয়ার ঝুঁকি যারা প্রত্যহ ২.২ গ্রামের কম খাচ্ছেন তাদের অর্ধেক

ভেষজ সম্পদ t খুবই পরিচিত লতাগুল্মত্রিফলাএরই হিতকরী গুণ পরীক্ষা করে দেখেছিল পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের একটি গবেষক দলতারা দেখেছিল, ইঁদুরের দেহে মানব-অগ্ন্যাশয় টিউমার গ্রাফ্‌ট করার পর সেগুলোকে ত্রিফলার রস খাওয়ানোয় সেই টিউমারের বাড়ন অনেক ধীর করে নিয়ে এল২০০৭ সালের এপ্রিলে আমেরিকার অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যান্সার রিসার্চের বার্ষিক সভায় এই গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে আশা প্রকাশ করা হলো যে একদিন এ দিয়ে একটি চিকিৎসা উদ্ভাবন সম্ভব হবে

গ্রীন টি কেন উপকারী t গ্রীন টি বা সবুজ চা উপকারী এ নিয়ে কোন বিতর্ক নেইতবে সবুজ চা পানের একটা নিয়ম অনুসরণ করতে হবেসম্প্রতি গবেষণায় দেখা গেছে সবুজ চা কমন কোল্ডবা শীতকালীন ঠান্ডাজনিত সমস্যা রোধ করতে সহায়ক

রোগ প্রতিরোধে কালোজিরাঃ  (ডা. মোঃ সাদেকুর রহমান) প্রাচীনকাল থেকে কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছেপ্রায় ১৪শবছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছিলেন, ‘কালোজিরা রোগ নিরাময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদানতোমরা কালোজিরা ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই প্রায় সব রোগের নিরাময় ক্ষমতা এর মধ্যে নিহিত রয়েছে